ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘পাহাড়সম’

নিউজ প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৪৫ রাত  

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেন দুদকের মামলায় দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর আহমেদ । ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল, অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়া বেনজীরের কীর্তিকলাপের মধ্যে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার তথ্য বের হয়।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে করা মামলার আসামি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একাধিক মামলায় বেনজীর আহমেদ আসামি হিসেবে রয়েছেন। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিদের মধ্যে একজন তিনি। ওই ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তখন তিনি ডিএমপির কমিশনার ছিলেন।

এছাড়া র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও তিনি আসামি, যেখানে মোট ১৭ জন অভিযুক্ত এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক মামলায় বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ: বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্তে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়া ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার ৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকার, বড় ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার, মেজ মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া যায়।

দুদকের অনুসন্ধানে গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, ৩টি বিও অ্যাকাউন্ট ও ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। আদালত থেকে এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

দুদকের আরেক মামলায় প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে বলা হয়, ঋণের নামে উত্তোলিত অর্থের বিনিয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি দেশ ছাড়েন বলে দুদক সূত্রে দাবি করা হয়।

২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবিএ প্রোগ্রাম থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি ‘ড. বেনজীর আহমেদ’ উপাধি ব্যবহার করেন। অভিযোগ ওঠে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ না করেও ভর্তি হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি স্থগিত করে।

পাসপোর্ট ও প্রশাসনিক বিতর্ক: ২০১৬ সালে র‍্যাবে দায়িত্বকালীন সময়ে তথ্য গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে পাসপোর্ট নবায়নের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক আপত্তি থাকলেও পরে তাকে দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদও ছিলেন, যদিও তখন র‍্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে আইজিপি পদে ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‍্যাবের প্রধান ছিলেন।