ঢাকা, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ কাল

নিউজ প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৮:৫২ রাত  

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে আগামীকাল শনিবার (১৩ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি জানান, সমাবেশ ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইনসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, এলডিপির মহানগর সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।

নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক, জামায়াত মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, লেবার পার্টির মহানগর সেক্রেটারি মো. আফসার উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারাও এতে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও এ কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন।

সমাবেশকে সামনে রেখে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক সংস্কার আনবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যমান কর কাঠামোর মাধ্যমে এমন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বরং এটি একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু পণ্যের কর হ্রাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অতীতে দেখা যায়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ১১ দলীয় জোট বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করছে, যার অংশ হিসেবে লালদিঘী ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। গণভোট, জুলাই সনদসহ রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগও যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং জবাবদিহিতার অভাব জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

শেষে তিনি বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

দৈনিক সরোবর/ এ এইচ