ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার, প্রতারণার অভিযোগে তোলপাড়
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৮:২৮ সকাল
ঢাকা: দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে প্রতারণার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
শনিবার গুলশান-১ এলাকায় টানা ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন জানান, প্রতারণা কাজে অত্যন্ত দক্ষ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে গুলশান-১ এলাকার একটি বাসায় তার অবস্থানের তথ্য পায় পুলিশ।
এরপর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১৮ ঘণ্টার চেষ্টার পর শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি ও পশুর হাটকেন্দ্রিক নানা প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস আগে গুলশান থানা পুলিশের আরেক অভিযানে তার হেফাজত থেকে দুটি চোরাই ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির সম্পৃক্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন। প্রতারণা বা জালিয়াতির সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
