ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:৩৪ রাত
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে কেন্দ্র করে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশের একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোনার চোরাচালানের সন্দেহে চালানো অভিযানে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে গেলে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনায় কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্বর্ণ চোরাচালান আসছে—এমন তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। মনিরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, তিনি বিষয়টি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পেয়েছেন।
অভিযানের সময় সেই সিএনজিতে ছিলেন জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান। তবে অভিযানে থাকা এসআই শফিকুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবল—রাসেল চৌধুরীসহ কেউই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার পরপরই দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই শফিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই ঘটনায় পুলিশের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করা সোহেলকে আটক করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাঈম হাসানের বড় ভাই সাব্বির হাসান অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে নাঈমকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির সময় শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার গলা চেপে ধরা হয় এবং পুলিশের হাতে থাকা পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের সোর্স সোহেলও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললেও তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়। জানা যায়, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনি গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে সোহেলকে প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকেও আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শেষ মুহূর্তের ঘটনায় সাব্বির হাসান জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে তাদের বাবা থানায় গেলে তাকে প্রায় ১৫ মিনিট বাইরে দাঁড়িয়ে রাখা হয় এবং ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরে তাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। তখন তিনি দেখেন, অভিযুক্ত সোহেল থানার ওসির পাশে বসে এসির বাতাস নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
দৈনিক সরোবর/ এআর
