'কেন অপহরণের নাটক সাজালেন শিবির নেতা জিসান'
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:২২ রাত
কুমিল্লায় এক শিবির নেতার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল, তদন্তে সেটি আত্মগোপনের নাটক বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে এক তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বুধবার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১১ জুন রাতে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডি করেন জিসান মিয়া প্রধানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহমেদ। এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। কিন্তু তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
তদন্তে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে কয়েক মাস আগে এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফলে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে তরুণী রাজি হলে একটি ওষুধের দোকান থেকে আনা গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করানো হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং পরে আরও ওষুধ দেওয়া হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে বিয়ের জন্য চাপ বাড়লে ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি জানান জিসান। তবে তার আগের দিন ১১ জুন সন্ধ্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং নিখোঁজের দাবি তুলে জিডি করানো হয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো একটি ঘটনা। পরে লাকসাম এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসার জন্য।
এদিকে, জিসানকে উদ্ধারের পরপরই ভুক্তভোগী তরুণী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হলেও এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ—জিসান মিয়া প্রধান, তার চাচাতো ভাই সজিব এবং একটি ওষুধ দোকানের মালিক/কর্মচারী।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে জিসান মিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে জিসানকে অপহরণ করা হয়নি; বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগসহ ভ্রূণ নষ্টের ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দৈনিক সরোবর/ এআর
