কণ্ঠশিল্পী মহিবুলের নতুন গান 'বিশ্বকাপের আনন্দ'

আগের সংবাদ

ময়মনসিংহে হর্কাস মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

পরের সংবাদ

মানুষ মানুষের জন্য ,মি: কুকি সবার জন্য

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৭, ২০১৮ , ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুন ৭, ২০১৮, ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

শাহআলম বেপারী||মানুষ মানুষের জন্য, মি: কুকি সবার জন্য এই স্লোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি গল্প ,আর এই গল্প তৈরি হয়েছে মিঃ কুকি এবং মানবিক ঢাকার যৌথ প্রয়াস আশার আলো ক্যাম্পেইন।‌

আশার আলো ক্যাম্পেইন বর্ণনা:গল্পের শুরুতেই দেখতে পাবো আরিফ নামের এক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর দৈনিন্দন জীবনের গল্প এর পর আমরা দেখতে পাবো একজন সিঙ্গেল মাকে কিভাবে শিশুটির পাশে এসে দাড়ায়। চলুন আমরা জেনেনেই আরিফ এবং মা এর নেপথ‌্যের গল্প, এই গল্পটি তৈরি করেছে রিয়াদ রহমান, এবং গল্পের ভূপেন হাজারিকার কালজ্বয়ী গানটির নতুন করে রুপ দিয়েছে ক্লোজআপ ওয়ানের তারকা কিশোর।

আরিফ: একজন সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু, ব্যস্ত ঢাকা শহরের সু-উচ্চ প্রাসাদের পাদদেশে অস্বাস্থ্যকর বস্তি নামক মায়াহীন, ভালবাসাহীন ,অশিক্ষা, কুসংসার, নানা অনাচার,বৈষম্য, রোগ ব্যাধি , অভাব এর আন্ধার গুহায় যার বেড়ে উঠা বাস্তবিক নানা সংগ্রাম এবং সংকটের মধ্য দিয়ে ।

 

এ শহরের আরও দশজন মায়ের সন্তানের মতই সেও মানুষ , কিন্তু দুঃখ , কষ্ট , অভাব, অভিযোগ, গ্লানি আর অপমান যার নিত্য সাথী। এই আজব ঢাকা শহরের বিভিন্ন হোটেল আর রেস্টুরেন্ট এর উৎসব আর রাজকীয় খাবারের সমারোহ দেখে সারাদিন অভুক্ত থেকে করুন অশ্রু জলে জলাঞ্জলি হতে হয় নিস্পাপ সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে ।

অবহেলা, অনাদার, ধিক্কার, অপমান, অনাচার, ক্ষুধা যার একমাত্র অবলম্বন । এই অসহায় আরিফের দিকে মানবতা কিংবা মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে পরম স্নেহ ,মমতার পরশ দিয়ে কেউ বুকে টেনে নিতে চায়না, নেয়না ।

এই রকম একটি মানবিক গল্প নিয়ে তৈরি হয় মি: কুকির আশার আলো ও মানবিক ঢাকা যৌথ প্রয়াসে তৈরি হোপ ফর লাইফ।
হোটেল ,রেস্টুরেন্ট ,সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে আরিফ দৌড়ে গিয়ে সাহেবেদের গাড়ি মুছে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।

সাহেবের ধমক কিংবা থাপ্পড় আরিফের কাজ থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয় ।
শুধু মাত্রই অভুক্তই জানে, ক্ষুধার দানব কতটা হিংস্র হয়ে তার পেটে হামলে পড়ে ,সব আশা আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন ভেঙ্গে দিতে চায়।
অন্য দিনের মতই রাজধানীর বনানীতে এক রেস্টুরেন্টের পাশে আরিফ দাঁড়িয়ে থাকে, একটা কালো গ্লাসঘেরা সাদা গাড়ি এসে রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থেমে দাঁড়ায় । আরিফ প্রতিদিন এর মতো দৌড়েরে গিয়ে গাড়ি মুছতে শুরু করলে সাহেব একটু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আরিফের উপর ।

আধুনিক চিন্তা এবং খুব ভালো মনের মানুষ,সিঙ্গেল মম আফরি।
আফরি এক কন্যা সন্তানের জননী, কর্পোরেট অফিসে জব করে। ব্যস্ততার জন্য প্রতিদিন মেয়েকে ঠিক মতো সময় দিতে পারে না কিন্তু মাঝে মাঝে মেয়েকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়।

অন্য দিনের মতো আফরি তার সন্তানকে নিয়ে বনানীতে এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছেন কিন্তু তিনি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করার সময় দেখলেন একটা বাচ্চাকে প্রাইভেট কারের সাহেব ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন । এরপর আফরি যখন তার সন্তানকে খাইয়ে দিচ্ছেন তখন দেখতেপান সাদা গ্লাসের স্বচ্ছতা ভেদ করে অসহায় দুটি চোখ চেয়ে আছে রেস্টুরেন্টের দিকে ।

আফরি তখনি ছুটে বের হয়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে পরম মমতা দিয়ে ডেকে নিয়ে গেলেন ভিতরে । মা মমতার ভাণ্ডার, পরম আস্থা এবং ভালবাসার জায়গা ।
সিঙ্গেল মম আফরি , অশ্রুজল সংবরণ করলেন , নিজের বাচ্চার মতো করেই পাশে বসিয়ে খাবার খেতে থাকলেন ।
মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত মানুষ আফরিন । সমাজ সংস্কারে যার অগ্রগণ্য ভুমিকা।

এই সমাজের সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আফরি সিঙ্গেল মম হয়েছেন ।
সন্তান নিয়েছেন, একা একা পথ চলছেন । নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন অসহায় আর নিরুপায় মানুষের কল্যাণে ।
আত্ম অহমিকা, সকল লালসাকে উবে দিয়ে নিজে হতে চেয়েছেন একজন শুদ্ধ , পরিশুদ্ধ , খাঁটি মানব প্রেমী , মমতার কাণ্ডারি ।
আরিফ ক্ষুধার্থ, পিতৃহারা, আরিফকে এই কাজ করে মায়ের অভাবের সংসারের সাহায্য করতে হয় ,ঘরে একটা ছোট বোনও আছে । মা অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন ।
দিন বদলের অসাধ্য চেষ্টা।

কতটুকু সফলতা কিংবা সাফল্য অধরা থাকে বঞ্চিত অসহায় একজন মানুষই বলতে পারেন ভালভাবে ।
সংগ্রাম আর লড়াই করেই জীবন পরিবর্তনের মরণপণ প্রচেষ্টা । আসুন আমরা আফরির মতো সমাজের সুভিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাড়াই।

মিঃকুকি আর মানবিক ঢাকা সমাজের অসহায় বঞ্চিত মানুষের পাশে ছিলো থাকবে কিন্তু আপনাদের একটু  সহযোগিতা এই কাজকে আরও গতিশীল করতে পারে।