বৃদ্ধের বিকৃত যৌনাচারে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী গর্ভবতী

আগের সংবাদ

জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ

পরের সংবাদ

আলোচনায় সিন্ডিকেট সমর্থকরা, আবারও অভিযোগ শিবির ছাত্রদলের

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৬, ২০১৮ , ৩:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র প্রতিবেদক:

অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১১ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হলেও এখনো নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়নি। সংগঠনের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্য উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

তবে সিন্ডিকেট তাদের মনোনিত প্রার্থী বের করে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে এবারও সিন্ডিকেট বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা বানাতে শিবির ও ছাত্রদলের সাবেক সমর্থনদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। নেতৃত্বে আনার জন্য তাদের নিয়েই দৌড় ঝাপ করছেন।

সরকার সমর্থিত গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিকে দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুপারিশ করিয়ে আস্থাভাজন ব্যাক্তি নেতা বানাতে উঠে পড়ে লেগেছেন বলেও জানা যায়। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজনকে নিয়ে এখন চলছে সমালোচনা ঝড়।

তবে সব ছাপিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও নানা অভিযোগে অভিযুক্তরা। শিবির, ছাত্রদল, চাঁদাবাজি ও ব্যবসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বরব রয়েছেন অনেকেই।

শেষ মুহূর্তে শীর্ষপদের জন্য আলোচানায় আছেন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার দায়ে অভিযুক্তরা। এদের মধ্য আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রশিক্ষনবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, উপ প্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, উপ- আইন বিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও সহ সম্পাদক খাদেমুল বাশার জয়।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ধারা ৫ এ (গ ) উপধারায় বলা আছে বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরিতে নিয়োজিত ব্যাক্তি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পদ পাবেন না। ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী মাজাহারুল ইসলাম শামিম নাকি অনেকটাই এগিয়ে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্মী সংগঠের গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি ছিলেন।

তার বাবা চাঁদপুর কচুয়া থানার জগতপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। বিএনপির সমর্থন পেয়ে চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেছিলেন এই শামিমের বাবা। শামিমের আপন চাচাতো ভাই হাফেজ হুমায়ুন কবির কুমিল্লা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের নির্দেশেই প্রার্থী হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম হাবিবুল্লা বিপ্লবেরও পরিবার নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। তার বাবা টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম সম্পাদক এবং বর্তমানে গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। বিপ্লব আবার বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। হাবিবুল্লাহ বিপ্লবের প্রথম রাজনৈতিক পোষ্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

ছাত্রলীগের ২৮ তম সম্মেলনের আগে সাইফুর রহমান সোহাগের বাইকের চালক ছিলেন। মহসিন হল থেকে ছাত্রদলের প্রোগ্রামে যাওয়ার অপরাধে ২০১৪ সালে তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হলেও সাইফুর রহমান সোহাগের সুপারিশে তাকে আবারও হলে তোলা হয়। অপর প্রার্থী কেন্দ্রীয় উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সাত বছরেও স্নাতক শেষ করতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিধান অনুযায়ী ৬ বছরের মধ্য স্নাতক শেষ করতে হবে।

২০১১-২০১২ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ৬ বছরে স্নাতক শেষ করতে না পারায় ছাত্রত্ব হারান ইনান। একাধিক মেয়ের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে ইনানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ইনান বিজয় একাত্তর হলের সভাপতি মনোনিত হওয়ার সময় তার এক বান্ধবীকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সময়ের এক শীর্ষ নেতাকে বান্ধবী দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সভাপতি বানাতে বাধ্য করে। এছাড়া ইনানের বিরুদ্ধে বিজয় একাত্তর হল ক্যান্টিন মালিক আনোয়ারের কাছ থেকে এককালীন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিমাসে ক্যান্টিন থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিতো ইনান। এছাড়া হলের কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ইনান সভাপতি থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে হল প্রাধক্ষ্যকে তার পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে বাধ্য করে। এবং নিয়োগ প্রাপ্ত প্রতি জনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বরিশালে ইনানের রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা রয়েছে। 

সিন্ডিকেটের হোয়াইট হর্স ক্যান্ডিডেট কেন্দ্রীয় সহ- সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। জয়ের আপন চাচাতো ভাই মাসুদ করিম বরগুনা সরকারী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। জয়ের সহদর খাইরুল বাশার সেতু বরগুনা জেলা সদরে অতি পরিচিত একজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী। জয়ও অ্যালকোহল ও ইয়াবায় আসক্ত। জয়ের বিরুদ্ধে গত ঈদুল ফিতরের দুই দিন পর ২৮-৬-২০১৭ তারিখে মাদক সেবন করে মাতাল হয়ে বরগুনা সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নাসির ফরাজির পরিবহন থেকে চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না পেয়ে যুবলীগ নেতার উপর দেশী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান ।

পরে যুবলীগ নেতা চাঁদা দাবির অভিযোগ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত মামলার নং (২৮-২০১৭)। এছাড়া জয় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের পারিবারিক ভাবে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে এফ রহমান হল ছাত্রলীগের মধ্য কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য জয়কে স্যার এফ রহমান হল থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিলো। পরে লিয়াকত শিকদারের নির্দেশে ২০১৫ সালে স্যার এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম রুহুল আমিন জয়কে হলে তুলতে বাধ্য হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জয় লিয়াকত শিকদারের অফিসে টেন্ডার সিডিউল লেখার কাজ করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।