বর্ষসেরা খেলোয়াড় ভূষিত হলেন সালাহ

আগের সংবাদ

এবার ডেটিং সার্ভিস চালু করছে ফেসবুক

পরের সংবাদ

চাকরির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২, ২০১৮ , ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ২, ২০১৮, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

চাকরি পেতে হলে অনেকগুলো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। যতোগুলো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয় তার মধ্যে আইকিউ অন্যতম। এমন কোনো পরীক্ষা নেই যেখানে বুদ্ধি বৃত্তিক প্রশ্ন থাকে না। শর্ট কোশ্চেন, রিটেন কোশ্চেন কিংবা ভাইভা- সর্বত্রই এই আইকিউর প্রচলন বিপুলভাবে পরিলক্ষিত হয়। বিসিএসের মতো কঠিন পরীক্ষাগুলোতেও অনেকে এই আইকিউর জন্য পিছিয়ে পড়েন। অথচ তিনি রিটেন পরীক্ষায় ভালো করেছেন এবং তার একাডেমিক পরীক্ষার রেজাল্টও অনেক ভালো। একজন মানুষের দু’রকম বয়স থাকে- মেন্টাল এজ বা মানসিক বয়স এবং ক্রনোলোজিক্যাল এজ বা কালক্রমিক বয়স।
দেখা যায়, একজন মানুষের ৩০ বছর বয়স; কিন্তু তার চিন্তাভাবনা অর্থাত্ বুদ্ধির দৌড় ১৫ বছরের বালকের মতো। আবার অনেকে আছে বয়স কম; কিন্তু কাজের ধরন দেখে বোঝা যায় তার বয়স আরও বেশি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশের পড়ালেখা ব্যবস্থায় মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকলেও বড় বড় চাকরির পরীক্ষাগুলোতে আইকিউ একটা কমন ব্যাপার। তাই পড়ালেখা শেষ করে একটি ছেলে বা মেয়েকে এ বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। হ্যাঁ, এ কথা বাস্তব যে, মানসিক দক্ষতা কোনো বংশপরম্পরার ব্যাপার নয়; নিয়মিত চর্চার কারণে মানুষের মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি হয়। আর এ কাজটা ছোটবেলা থেকে মানুষের মধ্যে তৈরি করে নিতে হয়। কেননা বিজ্ঞানীদের ধারণা, একটি ছেলে বা মেয়ের বয়স যখন ১৬ বছর হয়ে যায় তখন আর মানসিক বৃদ্ধি হয় না। সুতরাং এটি ছোটবেলা থেকেই বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হয়। এবার জানা দরকার, কেন আইকিউ দরকার? দরকার এই কারণে যে, বাস্তব জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি আমাদের হতে হয়, যেখানে একাডেমিক পড়াশোনা খুব একটা কাজে লাগে না। নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ জন্য বড় একটি পদে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বুদ্ধিমত্তার স্কেলে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়, সে যেন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো কিছু করতে পারে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আইকিউ মাপার বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনেও নানা ওয়েবসাইট আছে, যেখানে আপনি আপনার আইকিউ টেস্ট করতে পারেন। ফলে বুঝতে পারবেন আপনার অবস্থান এবং এটা জানা খুবই জরুরি। কেন? কারণ ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তো এবার জানা যাক কেমন আইকিউ? বিসিএস বা এ রকম অন্যান্য বড় চাকরির এমসিকিউ, লিখিত এবং ভাইভা- এই তিনটি পরীক্ষাতেই মানসিক দক্ষতার প্রমাণ নেওয়া হয়। সুতরাং ভালো চাকরির জন্য আইকিউর ওপর ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক। কিন্তু কেমন দক্ষতা? কতটা দক্ষতা? এ জন্য আপনি বিগত বছরের চাকরির প্রশ্নগুলো দেখতে পারেন। দেখতে পারেন মানসিক দক্ষতার বিভিন্ন বই। ঢাকার নীলক্ষেতে এমন অনেক বই পাবেন। সাধারণত আপনার উপস্থিত বুদ্ধি, কোনো একটা ব্যাপার গ্রহণ করার অ্যাবিলিটি ইত্যাদি ব্যাপার আইকিউর মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়। সাধারণ জ্ঞান, মনে রাখার কৌশল ইত্যাদিও মানসিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। দেখা যায়, অনেকে পড়াশোনা করেন অনেক বেশি; কিন্তু মনে রাখার ক্ষমতা খুবই কম। আবার অনেকে পড়াশোনা অনেক কম করেও পরীক্ষায় খুব ভালো করেন। এর একমাত্র কারণ হলো, ভালো করছে তার মানসিক শক্তি, মানসিক দক্ষতা বেশি। সুতরাং উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক কাজ করা দরকার। বাস্তব জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সঙ্গে পরিচয় হওয়া দরকার। যেগুলো আপনাকে মানসিক শক্তি এবং দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
আপনি ইচ্ছা করলে আপনার আইকিউ ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন। এ জন্য সঠিক নিয়মে চর্চা করে যেতে হবে। কিন্তু সঠিক নিয়মটা কী? আর কোথায় এবং কীভাবেই বা চর্চা করবেন? শুরু করুন খুব সিম্পলভাবে। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাগুলো থেকে এমন আইকিউ চর্চা করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে আইকিউ নিয়ে।