কাল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা

আগের সংবাদ

তিন রোগীকে নিজের গাড়িতে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পরের সংবাদ

সিন্ডিকেটের দৌড়াত্বের কারণে ভাইলীগের জন্ম হয়েছে

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৬, ২০১৮ , ২:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৮, ২:১৯ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেটেই ভাইলীগ বানিয়েছে বলে মনে করেণ সোহান খান বর্তমানে কেন্দ্রীয় দলে সহ-সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন। তার স্বপ্ন রাজনীতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়া। তাই তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন।

সোহান খান পারিবারিক ভাবে কট্টর আওয়ামী সমর্থক , তিনি পরিবারের ছোট সন্তান , তার ভাই রোমান খান বর্তমান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগের, এর আগেও সে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।
সোহান খানের বাবা এখন বয়োবৃদ্ধ। তিনি আওয়ামী লীগ প্যানেলে মেয়র ও জাতীয় নির্বাচনে ০৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচন সমন্নয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন , মা গৃহিণী।
তার স্বপ্ন আওয়ামীলীগের একজন আদর্শ নেতা হয়ে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশের জন্য আজীবন কাজ করে যাবেন। সোহান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন।ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ তার।

রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে ATHNEWS24.com মুখোমুখি হয়েছেন সোহান খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. শাহআলম বেপারী।

প্রশ্ন: রাজনীতিতে যুক্ত হবার শুরুর কথা জানতে চাই…

**** সোহান খান **** রাজনীতিতে যুক্ত হবার ইচ্ছের চেয়ে বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসার এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে পছন্দ করার ইচ্ছে ছোট বেলা থেকেই আমার বাবার কাছ থেকে পাওয়া। আর আমার বাবাই আমার প্রথম শিক্ষক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করার মানুষিকতা সৃষ্টি করতে।
এরপর স্কুল জীবন যখন আমার, ২০০১ সালে আমি তখন ৭ম শ্রেণীরর ছাত্র তখন প্রথম সক্রিয় ভাবে আব্দুল মতিন সরকারের নৌকা প্রতিকে জাতীয় নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করি ময়মনসিংহ ০৭ ত্রিশাল উপজেলা আসনে…
ওখান থেকেই শুরু…

প্রশ্ন: আপনার পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস কি?

****

**** সোহান খান **** পারিবারিক ভাবে আমার পরিবার কট্টর আওয়ামী সমর্থক পরিবার, আমার পরিবারের ছোট সন্তান আমি, আমার ভাই রোমান খান বর্তমান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগের, এর আগেও সে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।
আমার বাবা এখন বয়োবৃদ্ধ। উনি আওয়ামী লীগ প্যানেলে মেয়র ও জাতীয় নির্বাচনে আমাদের ০৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচন সমন্নয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন সবসময়। আমার মা গৃহিণী।
প্রশ্ন: আগামী সম্মেলনে আপনার প্রত্যাশিত কি?

আমি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করছি। আমাকে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।

প্রশ্ন : কেমন নেতা আপনার প্রত্যাশা কি?

**** সোহান খান **** বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর আগামী সম্মেলন অতীতের ০৩টি সম্মেলন যে ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার থেকে ভিন্ন হবে। কারণ, সরকার দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গত ০৯.৫ বছরের বেশী। এর মধ্যেই দলে অনেক সুবিধাভোগী জুটেছে, যারা ২০০৮ এর নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি জামাত সংশ্লিষ্ট ছিল। আবার এই সম্মেলনের যারা ক্যান্ডিডেট তাদের অধিকাংশ সরকার দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। যারা নূন্যতম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এই ক্যাম্পাসের হালচাল দেখেনি, এদের অভিজ্ঞতা ও তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজনীতি করা ছেলেদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক।
এই বিষয় গুলি বিবেচনা করে ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের নতুন দিকপাল নির্বাচিত হবে, এটাই প্রত্যাশা করি। আবার সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচন সামনে রেখে অভিজ্ঞ কমিটি গঠনের কোন বিকল্প নেই, আমি মনে করি।
আগামী সম্মেলনে আপনার প্রত্যাশিত কি?
আমি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করছি। আমাকে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।
আগামী সম্মেলনে আপনার প্রত্যাশিত কি?
আমি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করছি। আমাকে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।

প্রশ্ন:আগামী দিনে শীর্ষ পদে নেতৃত্ব আসলে ছাত্রলীগকে নিয়ে নতুনভাবে কি স্বপ্ন দেখবেন?

**** সোহান খান ****

যদি শীর্ষ পদে আসি…!! খুব কঠিন প্রশ্ন।।
যদি আসি, তবে অনেক পরিকল্পনা আছে। প্রথমেই দ্রুত সময়ে কমিটি পূর্নাঙ্গ করে জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন দ্রুত করে জেলা ভিত্তিক দায়িত্বশীলদের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে দ্রুত উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করব। ওয়ার্ড ভিত্তিক কেন্দ্রকমিটি করবো ছাত্রলীগের সারা দেশে, কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন।
কেন্দ্রীয় কমিটি আকারে ছোট করবো, আমি নিজে গত দুই কমিটির পোস্টেড কেন্দ্রীয়। আমি জানি অধিক কেন্দ্রীয় নেতা সৃষ্টি করা কেন্দ্রীয় নেতাদের মূল্যায়ন কমে যায়, এবং রাজনীতি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই কমিটি ছোট ও দায়িত্বশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়, আর কেন্দ্র শুরু করে থানার ও ইউনিয়নের নেতাদের সকল তথ্য ডাটাবেজ থাকবে ডিজিটাল ভাবে, যেন সবাই সবার সহযোগিতা পায় দ্রুত এবং কেউ কোন অকারেন্স করলে যেন পালাতে না পারে।
আর কমিটির জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনায় হবে আমার মূল লক্ষ্য, গত কয়েক কমিটি থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একক কর্তৃত্ব হওয়ার কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অন্যান্য সহযোগী পোস্টেড নেতাদের মূল্যায়ন থাকেনা। তাই, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে সবার মূল্যায়ন বৃদ্ধিই হবে আমার লক্ষ্য।
সর্বোপরি, হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনায় হবে আমার মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন: আপনি কোন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত…?

**** সোহান খান ****

না, আমি কোন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত নই। তবে ডিপার্টমেন্টে ডিবেট এর সাথে যুক্ত ছিলাম। আর পড়াশুনা করেছি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এই কারণে অনেক রাজনৈতিক থিওরি ও পাশ্চাত্য রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ে অনেক সেমিনারে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছে।

প্রশ্ন: বর্তমান যে পদে আছেন এই পদে থাকাবস্থায় কি কি দায়িত্ব পালন করেছেন?

**** সোহান খান ****

বর্তমানে আমি সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছি, এই পদে থেকে আমি ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছি, আমার দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলায় নতুন আহবায়ক কমিটি হয়, এছাড়া এবারের বন্যায় টাঙ্গাইল জামালপুরের বন্যা দূর্গত এলাকার ত্রাণ কমিটির প্রধান হয়ে কাজ করি, এছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কমিটি গঠনের পূর্বে আনুষ্ঠানিক সিভি গ্রহনের দায়িত্বে ছিলাম। এরপূর্বে বিগত কমিটির(সোহাগ-নাজমুল) কমিটির উপতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দায়িত্বে থাকার সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড মিরপুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্নয়ক ছিলাম, ২০১৩ সালে গাজিপুর সিটি নির্বাচনে টংগী এর ৪৭নং ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্নয়ক ছিলাম। এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনেও কাজ করেছি দক্ষতার সাথে।
প্রশ্ন: কার কাছে থেকে রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা পেলেন?

**** সোহান খান ****

আমি রাজনীতিতে এসেছি স্থানীয় ভাবে আব্দুল মতিন সরকারের হাত ধরে ২০০১ সালে, তিনি তখন নৌকা প্রতিকে বিজয়ী হোন। তখন আমি ৭ম শ্রেনীর ছাত্র ছিলাম, সক্রিয় ভাবে উনার নির্বাচনে অংশ নিই। এবং ২০০৩ সালে আমি ত্রিশাল পৌর ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম।
প্রশ্ন: ক্যাম্পাসে কার হাত ধরে রাজনীতি শুরু?

**** সোহান খান ****

আমি ২০০৭/০৮ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই, তখন অবৈধ তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। ভর্তি হয়েই হলে উঠি ছাত্রলীগের হয়ে, কিন্তু তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলি ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রিত ছিল, মাত্র দুই দিন হলে ছিলাম। এরপরই আমাদের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে হল ছাড়তে হয় ছাত্রদলের হাতে। তাই বিভিন্ন হল ও মেসে থেকে ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিতাম তখন। এবং ২০০৮ সালের ২৯ডিসেম্বর নির্বাচনের রাত থেকে হল দখল করে নিয়ন্ত্রণ নিই আমরা হলের। আমার প্রথম নেতা তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ভাই ছিলেন, তিনি কবি জসীম উদদীন হলের ছাত্র ছিলেন, আমিও একই হলের ছাত্র ছিলাম। এবং নির্বাচনের পর প্রথম হল কমিটিতে(জীবন-এনায়েত) আমি হলের আইন সম্পাদকে মনোনীত হই। এরপর ২৭তম কাউন্সিলের (সোহাগ-নাজমুল কমিটি) পর হলের সভাপতি প্রার্থী হই এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলম ভাইয়ের অনুসারী ছিলাম। এবং হল কমিটির পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হই। এরপর ছাত্রলীগের ২৮ তম জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলাম এরপর এখন সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।

প্রশ্ন:আপনি ছাত্রলীগে সিন্ডিকেট আছে বিশ্বাস করেন?

**** সোহান খান ****

আমি সিণ্ডিকেট বিশ্বাস করিনা, আর সিন্ডিকেট শব্দটা ঘৃণার চোখে দেখি।
কারণ, এই সিন্ডিকেটের দৌড়াত্বের কারণে ভাইলীগের জন্ম হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমাদের রাজনীতির সাহস শক্তি ও প্রাপ্তির আধার হচ্ছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। প্রিয় নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত আমাদের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে, এর বাইরে সব ক্ষণস্থায়ী। তাই সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করিনা আমি, আমি রাজনীতি করি দেশরত্ন শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন ও কর্মীদের ভালবাসা অর্জনের জন্য…
প্রশ্ন: সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কেমন অনুপ্রেরণা বা সহযোগিতা পাচ্ছেন ?

**** সোহান খান ****

হুম, কর্মীরাই আমার রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু, তাদের ভালবাসা অর্জনের মধ্য দিয়েই আমার চলার পাথেয়। তাদের ভালবাসা ও অনুপ্রেরণাতে আমি আজ এই অবস্থানে এবং সামনে এগিয়ে চলার সাহস শক্তি পাই।
আমার জীবনের একমাত্র চাওয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথকে মসৃণ করে কর্মীদের ভালবাসায় এগিয়ে চলা। রাজনীতি করি কর্মীদের ভালবাসা অর্জনের জন্যই, প্রাপ্তি হিসেবে এটাই একজন নেতার বড় অর্জন।